💕💓💕 রোমান্টিক ভালোবাসার গল্প 💕💓💕

Writer:#umme_kulsum_mou

Part End

পরের দিন সকালে জয় আর জয়ের বন্ধুরা বেড়িয়ে পরে সাথী কে আনার উদ্দেশ্য.....

ও আর একটা কথা তো বলাই হয়নি.. রাতে জয় সাথীর মায়ের সাথে কথা বলে প্লান করেই রেখেছে.. কিভাবে সাথী কে বাসা থে‌কে বের করবে...আর শুভকে জয় ফোন দিয়ে বলে রেখেছে সেখানে যাওয়ার জন্য...

কয়েক ঘণ্টা পর জয় সাথীর বাসার কাছাকাছি পৌঁছে যায়.. প্লান অনুযায়ী সাথীর মা সাথীকে নিয়ে বিয়ের মার্কেট করার কথা বলে বাসা থেকে বের হয়... সাথীর মা যখন সাথীকে জয়ের হাতে তুলে দেন... তখন একজন দেখে ফেলে আর সাথে সাথে সাথীর দাদুকে জানিয়ে দেন... সাথীর দাদু খবর পাওয়া মাত্রই লোকজন নিয়ে বেড়িয়ে পরে.. আর এদিকে কিছুক্ষণের মধ্যেই শুভ এসে যায়... ঝামেলা শুরু হওয়ার আগেই শুভ জয় আর সাথী কে গাড়িতে তুলে দিয়ে চলে যেতে বলে.. .জয় দেরি না করে সাথীর মায়ের থেকে বিদায় নিয়ে চলে যায়... শুভ আইনের নিয়ম দেখিয়ে সাথীর দাদুকে থামিয়ে দেয়.. সাথীর দাদু এসে আটকাতে না পেরে সাথীর আব্বুকে ফোন দেয় বাসায় আসতে বলে...
সাথীর মা বাসায় ফিরে আসে... আর কিছুক্ষণের মধ্যেই সাথীর আব্বুও বাসায় ফিরে আসে... সাথীর দাদু সব কথা বলে আর এটাও বলে যে সাথীকে জয়ের সাথে যেতে সাহায্য করেছে আর কেউ না সাথীর মা নিজেই....

সাথীর দাদুর সব কথা শুনে সাথীর আব্বু বলে যে আমি তো কোনো অন্যায় দেখছি না..মেয়ের সুখের জন্য একটা মায়ের যা করা উচিত তোমার বৌমা তাই করেছে...

দাদু: আমার বিপক্ষে গিয়ে তোমার মেয়েকে সাপোর্ট করছো???

বাবা: হুম কারণ আমাদের মেয়ের সুখের চেয়ে আমাদের আর কি চাওয়ার থাকতে পারে..

দাদু: এটাই কি তোমাদের সিদ্ধান্ত???

সাথীর বাবা: হ‍্যা কারণ আমাদের কাছে আমাদের মেয়ের সুখের থেকে আর কিছু নেই.. সাথীর সুখের জন্য ওর মা বাবা সব কিছু করতে পারে...

সাথীর বাবা সাথীর দাদুকে বলে...

সাথীর বাবা: আচ্ছা বাবা তুমি বলো তো আজ আমার মেয়ের জায়গায় যদি আমি থাকতাম আর আমার জায়গায় যদি তুমি থাকতে ...তখন কি করতে??? নিজের জেদ এর জন্য কি পারতে তোমার ছেলের মুখের হাসি কেড়ে নিতে.???

তুমি পারতে কিনা জানি না কিন্তু আমি পারবো না কারণ আমার কাছে আমার মেয়েই সব ..ওর সুখের জন্য সামান্য জেদ কেনো নিজের জীবন এর বিনিময়ে আমার মেয়ের মুখে হাসি ফোটাতে চাই..আর এর জন্য যদি আমাকে বাসা থেকে বেরিয়ে যেতে হয় তাই যাবো...

এই কথাটা বলেই সাথীর মা বাবা নিজেদের রুমে চলে যায়..আর সাথীর মাকে বলে গুছিয়ে নিতে আমরা এখনি বাসা থেকে চলে যাবো..
সাথীর বাবার এমন কথা শুনে সাথীর মা বলে...

সাথীর মা: কি বলছো তুমি .. বাবার তো বয়স হয়েছে উনি একা কি করে থাকবেন??? অসুস্থ হলে কে দেখবে.. ??আমরা ছাড়া তো বাবাকে দেখার আর কেউ নেই...

সাথীর বাবা: আমি যা সিদ্ধান্ত নিয়েছি সব কিছু ভেবেই নিয়েছি.. কারণ আমরা ছাড়া যে বাবার আর কেউ নেই ঠিক এই কথাটা বাবার বোঝা উচিৎ .. উনি সব কিছুর ওপর ওনার জেদ কে বড় করে দেখেন..সব সময় নিজেকে সিদ্ধান্তে অটল থাকেন... ওনার বুঝতে হবে নিজের পরিবারের জন্য অনেক সময় নিজের
সিদ্ধান্তকে প্রাধান্য দিতে হয় না...এই জন্যই আমাদের এখন বাসা থেকে চলে যাওয়া টা খুব প্রয়োজন.. আর তুমি টেনশন করো না আমি আশেপাশে বাসা নেবো যাতে বাবার খেয়াল রাখতে পারি...

ঘন্টাখানেক পর সাথীর মা বাবা সাথীর দাদুর থেকে বিদায় নিয়ে বাসা থেকে বেরিয়ে পরে.... তখনো সাথীর দাদুর নিজের জেদ নিয়েই ছিলেন...

সাথীর মা বাবা সাথীর দাদুর বাসার কাছাকাছি একটা বাসা নিয়ে থাকতে শুরু করে...

এইদিকে সাথী কে পেয়ে জয় আর জয়ের পরিবার খুব খুশি... সাথীর মা বাবাও খুশি জয় আর সাথীর সুখ দেখে ...আর সাথীর বাবার সাহায্য আর জয়ের নিজের চেষ্টায় জয় ব‍্যবসা শুরু করে..আর খুব অল্প সময়ের মধ্যেই জয় একজন নাম করা বড় ব‍্যবসী হয়ে উঠে.. এখন এক নামে জয়কে সবাই চেনে...

এর মধ্যে হঠাৎ একদিন সাথীর দাদু রাস্তা পার হওয়ার সময় এক্সিডেন্ট করে.. ওখানকার মানুষ সাথীর দাদুকে হাসপাতালে ভর্তি করে... এই খবর শোনার পর সাথে সাথেই সাথীর মা বাবা খুব দ্রুত হাসপাতালে চলে যায়.. ডাক্তার জানান যে ব্লাড লাগবে এ নেগেটিভ ..যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ব্লাড এর ব‍্যবস্থা করা লাগবে .. ব্লাড না পাওয়া গেলে বাঁচানো সম্ভব নয়...

সাথীর বাবা জয় কে ফোন দিয়ে সব জানাই.. জয় সব শুনে বলে বাবা টেনশন করবেন না আমার ব্লাড গ্রুপ এ নেগেটিভ.. আমি দাদুকে ব্লাড দেবো.. আমি এক্ষুনি আসছি...

জয় হাসপাতালে এসে দাদুকে ব্লাড দেয়... ডাক্তার কিছুক্ষণ পর এসে বলে আর কোনো টেনশন নাই উনি এখন বিপদমুক্ত.. ঘুমের ইনজেকশন পুশ করা হয়েছে ঘুম ভাঙলে একে একে দেখা করতে পারবেন....

কয়দিন যাওয়ার পর দাদু সুস্থ হয়ে ওঠেন... সাথী আর জয়ের পরিবার দাদুকে দেখতে আসে.. ওদের দেখে জিজ্ঞাসা করে ওরা কেনো এসেছে ওদের চলে যেতে বলো.... তখন সাথীর মা সব বুঝিয়ে বলে আর এটাও বলে জয় না থাকলে আপনাকে বাঁচানো সম্ভব হত না.. জয় নিজের ব্লাড দিয়েছে.. জয়ের ব্লাড আর আল্লাহ এর করুনায় আপনি আজ নতুন জীবন পেয়েছেন...

সাথীর মায়ের মুখে সব কথা শুনে নিজের ভুল বুঝতে পেরে জয় এর থেকে ক্ষমা চেয়ে নেন.. আর সাথী আর জয়ের বিয়ে মেনে নেন..আর সাথীর আব্বুকে বলে আবার একসঙ্গে থাকতে..আজ জয়ের মা বাবাকে বলে আমি যতদিন বাঁচি আমরা সবাই একসাথে একই পরিবারে থাকতে চাই.. সাথীর দাদুর কথা জয়ের মা বাবা ফেলতে পারে না..তাই সবাই সাথীর দাদুর বাসায় এসে একসঙ্গে থাকতে শুরু করে ...
এইভাবেই সবাইকে নিয়ে শুরু হয় জয় সাথীর নতুন জীবন.....

গল্পটা আর বেশি বাড়াতে চাইলাম না তাই এখানেই গল্পের ইতি টানলাম...

গল্পটা কেমন লাগলো সবাই জানাবেন... ভুলত্রুটি হলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন...
বন্ধুরা সবাই ভালো থাকবেন.. সুস্থ থাকবেন.. এখানেই আমার কথা শেষ করছি....

আল্লাহ হাফেজ....

  • Like
  • Love
  • HaHa
  • WoW
  • Sad
  • Angry
  • Dislike