স্বরূপ দর্শন Cover Image
Category
Other

ও যার আপন খবর আপনার হয় না
একবার আপনারে চিনতে পারলে রে।
যাবে অচেনারে চেনা, যাবে অচেনারে চেনা।।

ও সাঁই নিকট থেকে দূরে দেখায়
যেমন কেঁশের আড়ে পাহাড় লুকায় দেখ না।

আমি ঘুরে এলাম সারা জগৎরে।
তবু মনের গোল তো যায় না।।

ও সে অমৃত সাগরের সূধা।
সূধা খাইলে জিবের (জিহ্বা) ক্ষুধা তৃষ্ণা রয় না।

ফকির লালন মরল জল পিপাষায়রে।
আছে থাকতে নদী মেঘনা।

-লালন সাই

image

নিচেপদ্মে চরক বাণে যুগল মিলন চাঁদচাকোরা
সুর্যেরও সুসঙ্গে কমল কেমনে হয় প্রেমযুগল
জানিস না মন হলি কেবল কামাবেশে মাতোয়ারা।
স্ত্রীলিঙ্গ পুং লিঙ্গ নাহি নাহিরে নপুংসকে সেহি
যে লিঙ্গ ব্রহ্মাণ্ডের উপর কি দিব তুলনা তাহার
রসিকজনা জানছে রে বা অরসিকে চমৎকারা।
সামর্থ্যরে পূর্ণ জেনে বসে আছো সেই গুনমানে
যে রতিতে জন্মে মতি সে রতির কেমন আকৃতি
যারে বলে সুধার পতি স্ত্রী লোকের সেই নিহারা।
শোণিত শুক্র চম্পাকলি কোন স্বরূপ কাহারে বলি
ভৃঙ্গরূপের করো নিরূপণ চম্পাকলির অলি যে জন
ভাবেরও সাথে কহে লালন কিসে যাবে তারে ধরা।

--Lalon saiji

image

লালন সাঁইজীর সংক্ষিপ্ত জীবনী

গড়াই নদী কাকে বয়ে এনেছিল? কাকে বিশ্বেও শ্রেষ্ঠ ভাববাদী দরবেশ বলা হয়? কালীগাঙের পাড়ে ঘুমিয়ে আছেন কে? কার এক তারার সুরে বাংলাদেশ জাগে? এই চারটি প্রশ্নের উত্তর কিন্তু একটি। তা হলো বাউল সম্রাট লালন শাহ্‌। যাঁর আরেক নাম ফকীর লালন সাঁই। তবে শিষ্যরা ডাকে সাঁইজী নামে। আজ থেকে প্রায় ২৩৫ বছর আগের কথা। ১৭৭৪ সালে তিনি কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলার চাপড়া ইউনিয়নের ভাড়ারা গ্রামে জন্মগ্রহন করেন। তখন কুষ্টিয়া জেলা ছিল না। অবিভক্ত ভারতবর্ষেও নদীয়া জেলার অন্তর্গত মহকুমা ছিল। আর কুমারখালী ছিল ইউনিয়ন। লালন গড়াই নদীর তীর ঘেঁষে গড়ে ওঠা ভাড়ারা গ্রামের হিন্দু পরিবারে জন্ম গ্রহন করেন। তাঁর বাবা ছিলেন শ্রী মাধব কর আর মা ছিলেন শ্রীমতি পদ্মাবতী। লালন বাবা-মা’র একমাত্র সন্তান ছিলেন। শৈশবেই লালন তাঁর বাবাকে হারান। একমাত্র মায়ের আদর স্নেহে বেড়ে উঠেন তিনি। পরিবারের প্রধান বাবা বেঁচে না থাকায় সংসারের দায়-দায়িত্ব পড়ে লালনের কাঁধে। মা ছাড়া তখন তাঁর আর পৃথিবীতে কেউ ছিল না। মায়ের সেবার কথা ভেবে লালন বিয়ে করেন। লালন ব্যক্তি জীবনে ছিলেন নীতিবান। পরিবারের অন্যান্য আত্মীয় স্বজনদের সাথে তাঁর বনিবনা না হওয়ায় মা ও স্ত্রীকে নিয়ে একই গ্রামের দাসপাড়ায় নতুন করে বসতি গড়েন। সংসার চালাতে গিয়ে লালনের আর লেখাপড়ার সুযোগ হয়নি। তবে তিনি শৈশব থেকেই ছিলেন গান বাজনার সাথে ওতোপ্রোতভাবে জড়িত। ভাড়ারা গ্রামে কবিগান,পালাগান,কীর্তন সহ নানা রকম গানের আসর বসতো। লালন সেই আসরের একজন প্রিয়জন ছিলেন। তাঁর গান শুনে মানুষ মুগ্ধ হতো।

image